ভূয় এব মহাবাহো শৃণু মে পরমং বচঃ।
যত্তেহহং প্রীয়মাণায় বক্ষ্যামি হিতকাম্যয়া।।১
অনুবাদ
শ্রীভগবান বলিলেন — হে মহাবাহো, তুমি আমার বাক্য শ্রবণে প্রীতি লাভ করিয়াছ। আমি তোমার হিতার্থ পুনরায় উৎকৃষ্ট কথা বলিতেছি — তাহা শ্রবণ করো।
ন মে বিদুঃ সুরগণাঃ প্রভবং ন মহর্ষয়ঃ।
অহমাদির্হি দেবানাং মহর্ষীণাঞ্চ সর্বশঃ।।২
অনুবাদ
আমার উৎপত্তির বিষয় দেবগণ, মহর্ষিগণ — কেহই জ্ঞাত নহেন। কেন না আমি দেব ও মহর্ষিগণের সর্বপ্রকারেই আদিকারণ।
যো মামজমনাদিঞ্চ বেত্তি লোকমহেশ্বরম্।
অসংমূঢ়ঃ স মর্ত্যেষু সর্বপাপৈঃ প্রমুচ্যতে।।৩
অনুবাদ
যিনি জানেন আমার আদি নাই, জন্ম নাই, আমি সর্বলোকের মহেশ্বর — মনুষ্যমধ্যে তিনি মোহশূন্য হইয়া সর্বপাপ হইতে মুক্ত হন।
বুদ্ধিজ্ঞানমসংমোহঃ ক্ষমা সত্যং দমঃ শমঃ।
সুখং দুঃখং ভবোহভাবো ভয়ং চাভয়মেব চ।।৪
অনুবাদ
বুদ্ধি, জ্ঞান, কর্তব্যবিষয়ে অব্যাকুলতা, ক্ষমা, সত্য, দম, কাম, সুখ, দুঃখ, মৃত্যু, ভয় ও অভয়।
অহিংসা সমতা তুষ্টিস্তপো দানং যশোহযশঃ।
ভবন্তি ভাবা ভূতানাং মত্ত এব পৃথগ্বিধাঃ।।৫
অনুবাদ
অহিংসা, রাগদ্বেষাদি বিষয়ে সমচিত্ততা, সন্তোষ, তপঃ, দান এবং যশ ও অযশ — প্রাণীগণের এই সমস্ত ভিন্ন ভিন্ন ভাব আমা হইতেই উৎপন্ন হইয়া থাকে।
মহর্ষয়ঃ সপ্ত পূর্বে চত্বারো মনবস্তথা।
মদ্ভাবা মানসা জাতা যেষাং লোক ইমাঃ প্রজাঃ।।৬
অনুবাদ
ভৃগু প্রভৃতি সপ্তমহর্ষি, তাঁহাদের পূর্ববর্তী চার মহর্ষি এবং স্বায়ম্ভুবাদি মনুগণ — ইহারা সকলেই আমার মানসজাত ও জ্ঞানৈশ্বর্যশক্তিসম্পন্ন। জগতের সকল প্রজা তাঁহাদিগ হইতে উৎপন্ন হইয়াছে।
এতাং বিভূতিং যোগং চ মম যো বেত্তি তত্ত্বতঃ।
সোহবিকম্পেন যোগেন যুজ্যতে নাত্র সংশয়ঃ।।৭
অনুবাদ
এই বিভূতি এবং যোগৈশ্বর্য যিনি আমার যথার্থরূপে জানেন — তিনি অবিকম্পিত ভক্তিযোগে আমাতে যুক্ত হন, ইহাতে সংশয় নাই।
অহং সর্বস্য প্রভবো মত্তঃ সর্বং প্রবর্ততে।
ইতি মত্বা ভজন্তে মাং বুধা ভাবসমন্বিতাঃ।।৮
অনুবাদ
সমস্ত জগতের উৎপত্তির কারণ আমি, সমস্ত আমা হইতে প্রবর্তিত। বুদ্ধিমানগণ ইহা জানিয়া প্রেমাবিষ্ট হইয়া আমার ভজনা করেন।
মচ্চিত্তা মদ্গতপ্রাণা বোধয়ন্তঃ পরস্পরম্।
কথয়ন্তশ্চ মাং নিত্যং তুষ্যন্তি চ রমন্তি চ।।৯
অনুবাদ
আমাতে যাঁহাদিগের চিত্ত অর্পিত, যাঁহাদের প্রাণ মদ্গত — এইরূপ ভক্তগণ পরস্পরকে আমার কথা বুঝাইয়া এবং সর্বদা আমার কীর্তন করিয়া পরম সন্তোষলাভ করেন ও পরম প্রেমানন্দ উপভোগ করেন।
তেষাং সততযুক্তানাং ভজতাং প্রীতিপূর্বকম্।
দদামি বুদ্ধিযোগং তং যেন মামুপযান্তি তে।।১০
অনুবাদ
আমাতে যাঁহারা সতত চিত্তার্পণ করিয়া প্রীতিপূর্বক আমার ভজনা করেন — সেই সকল ভক্তকে আমি ঈদৃশ বুদ্ধিযোগ প্রদান করি, যদ্বারা তাঁহারা আমাকে লাভ করিয়া থাকেন।
তেষামেবানুকম্পার্থমহমজ্ঞানজং তমঃ।
নাশয়াম্যাত্মভাবস্থো জ্ঞানদীপেন ভাস্বতা।।১১
অনুবাদ
আমার সেই ভক্তগণের প্রতি অনুগ্রহার্থ তাঁহাদের অন্তঃকরণে অবস্থিত হইয়া উজ্জ্বল জ্ঞানরূপ দীপদ্বারা তাহাদের অজ্ঞানান্ধকার বিনষ্ট করি।
পরং ব্রহ্ম পরং ধাম পবিত্রং পরমং ভবান্।
পুরুষং শাশ্বতং দিব্যমাদিদেবমজং বিভুম্।।১২
আহুস্ত্বামৃষয়ঃ সর্বে দেবর্ষির্নারদস্তথা।
অসিতো দেবলো ব্যাসঃ স্বয়ং চৈব ব্রবীষি মে।।১৩
অনুবাদ
অর্জুন বলিলেন — তুমি পরব্রহ্ম, পরম ধাম, পরম পবিত্র, নিত্যপুরুষ, স্বয়ংপ্রকাশ — ভৃগু প্রভৃতি ঋষিগণ তাই বলেন। আদিদেব, জন্মরহিত ও সর্বব্যাপী বিভু — এইরূপ অসিত, দেবল এবং ব্যাস প্রভৃতি বলেন এবং তুমি স্বয়ং ও আমাকে তাহাই বলিতেছ।
সর্বমেতদৃতং মন্যে যন্মাং বদসি কেশব।
ন হি তে ভগবন্ ব্যক্তিং বিদুর্দেবা ন দানবাঃ।।১৪
অনুবাদ
হে কেশব, তুমি যাহা আমাকে বলিতেছ সে সকল সত্য বলিয়া মনে করি। কারণ হে ভগবান, কি দেব, কি দানব — কেহই তোমার প্রভাব জানেন না।
স্বয়মেবাত্মনাত্মানং বেত্থ ত্বং পুরুষোত্তম।
ভূতভাবন ভূতেশ দেবদেব জগৎপতে।।১৫
অনুবাদ
হে পুরুষোত্তম, ভূতভাবন, ভূতেশ, দেবদেব, জগৎপতে — আপনার স্বরূপ ও জ্ঞান কেবল তুমিই জান।
বক্তুমর্হস্যশেষেণ দিব্যা হ্যাত্মবিভূতয়ঃ।
যাভির্বিভূতিভির্লোকানিমাংস্ত্বং ব্যাপ্য তিষ্ঠসি।।১৬
অনুবাদ
বিভূতিদ্বারা তুমি যে যে সর্বলোক ব্যাপিয়া রহিয়াছ — তাহা তুমিই বলিতে সমর্থ। সে সকল বিস্তৃতরূপে আমাকে কৃপাপূর্বক বলো।
কথং বিদ্যামহং যোগিংস্ত্বাং সদা পরিচিন্তয়ন্।
কেষু কেষু চ ভাবেষু চিন্ত্যোহসি ভগবন্ ময়া।।১৭
অনুবাদ
হে যোগিন, আমি তোমাকে জানিতে পারি কি প্রকারে সতত চিন্তা করিলে? হে ভগবান, আমি তোমাকে কোন্ কোন্ পদার্থে কি ভাবে চিন্তা করিব?
বিস্তরেণাত্মনো যোগং বিভূতিং চ জনার্দন।
ভূয়ঃ কথয় তৃপ্তির্হি শৃণ্বতো নাস্তি মেহমৃতম্।।১৮
অনুবাদ
হে জনার্দন, পুনরায় তোমার যোগৈশ্বর্য ও বিভূতিসকল আমাকে বিস্তৃতরূপে বলো। যেহেতু তোমার অমৃতোপম বচন শ্রবণ করিয়া আমার তৃপ্তি হইতেছে না।
হন্ত তে কথয়িষ্যামি দিব্যা হ্যাত্মবিভূতয়ঃ।
প্রাধান্যতঃ কুরুশ্রেষ্ঠ নাস্ত্যন্তো বিস্তরস্য মে।।১৯
অনুবাদ
শ্রীভগবান বলিলেন — আচ্ছা, আমার প্রধান প্রধান দিব্য বিভূতিসকল তোমাকে বলিতেছি। কারণ আমার বিভূতি বাহুল্যের অন্ত নাই।
অহমাত্মা গুড়াকেশ সর্বভূতাশয়স্থিতঃ।
অহমাদিশ্চ মধ্যঞ্চ ভূতানামন্ত এব চ।।২০
অনুবাদ
হে অর্জুন, আমিই সর্বভূতের হৃদয়স্থিত আত্মা — সর্বভূতের উৎপত্তি, স্থিতি ও সংহারস্বরূপ আমিই।
আদিত্যানামহং বিষ্ণুর্জ্যোতিষাং রবিরংশুমান্।
মরীচির্মরুতামস্মি নক্ষত্রাণামহং শশী।।২১
অনুবাদ
দ্বাদশ আদিত্যের মধ্যে বিষ্ণু আমি। জ্যোতিষ্কগণের মধ্যে কিরণমালী সূর্য আমি। মরুৎগণের মধ্যে আমি মরীচি এবং নক্ষত্রগণের মধ্যে চন্দ্র।
বেদানাং সামবেদোহস্মি দেবানামস্মি বাসবঃ।
ইন্দ্রিয়াণাং মনশ্চাস্মি ভূতানামস্মি চেতনা।।২২
অনুবাদ
বেদসমূহের মধ্যে আমিই সামবেদ। দেবগণের মধ্যে আমিই ইন্দ্র। ইন্দ্রিয়গণের মধ্যে আমিই মন এবং ভূতগণের মধ্যে চেতনা আমি।
রুদ্রাণাং শঙ্করশ্চাস্মি বিত্তেশো যক্ষরক্ষসাম্।
বসূনাং পাবকশ্চাস্মি মেরুঃ শিখরিণামহম্।।২৩
অনুবাদ
একাদশ রুদ্রের মধ্যে আমি শঙ্কর। যক্ষরক্ষোগণের মধ্যে আমি কুবের। অষ্ট বসুর মধ্যে আমি অগ্নি এবং পর্বতগণের মধ্যে আমি সুমেরু।
পুরোধসাং চ মুখ্যং মাং বিদ্ধি পার্থ বৃহস্পতিম্।
সেনানীনামহং স্কন্দঃ সরসামস্মি সাগরঃ।।২৪
অনুবাদ
হে পার্থ, পুরোহিতগণের প্রধান বৃহস্পতি বলিয়া আমাকে জানিও। সেনানায়কগণের মধ্যে আমি দেবসেনাপতি কার্তিকেয় এবং জলাশয়সমূহের মধ্যে আমি সাগর।
মহর্ষীণাং ভৃগুরহং গিরামস্ম্যেকমক্ষরম্।
যজ্ঞানাং জপযজ্ঞোহস্মি স্থাবরাণাং হিমালয়ঃ।।২৫
অনুবাদ
মহর্ষিগণের মধ্যে আমি ভৃগু। শব্দসকলের মধ্যে একাক্ষর ওঁকার। যজ্ঞসকলের মধ্যে আমি জপযজ্ঞ এবং স্থাবর পদার্থের মধ্যে আমি হিমালয়।
অশ্বত্থঃ সর্ববৃক্ষাণাং দেবর্ষীণাঞ্চ নারদঃ।
গন্ধর্বাণাং চিত্ররথঃ সিদ্ধানাং কপিলো মুনিঃ।।২৬
অনুবাদ
বৃক্ষসকলের মধ্যে আমি অশ্বত্থ। দেবর্ষিগণের মধ্যে নারদ আমি। গন্ধর্বগণের মধ্যে চিত্ররথ এবং সিদ্ধপুরুষগণের মধ্যে কপিলমুনি।
উচ্চৈঃশ্রবসমশ্বানাং বিদ্ধি মামমৃতোদ্ভবম্।
ঐরাবতং গজেন্দ্রাণাং নরাণাঞ্চ নরাধিপম্।।২৭
অনুবাদ
অশ্বগণের মধ্যে সমুদ্রমন্থনকালে উদ্ভুত উচ্চৈঃশ্রবাঃ বলিয়া আমাকে জানিও। হস্তিগণের মধ্যে ঐরাবত এবং মনুষ্যগণের মধ্যে রাজা আমি।
আয়ুধানামহং বজ্রং ধেনুনামস্মি কামধুক্।
প্রজনশ্চাস্মি কন্দর্পঃ সর্পাণামস্মি বাসুকিঃ।।২৮
অনুবাদ
অস্ত্রসমূহের মধ্যে আমি বজ্র। ধেনুগণের মধ্যে কামধেনু। প্রাণীগণের উৎপত্তিহেতু কন্দর্প আমি এবং সর্পগণের মধ্যে আমি বাসুকি।
অনন্তশ্চাস্মি নাগানাং বরুণো যাদসামহম্।
পিতৃণামর্যমা চাস্মি যমঃ সংযমতামহম্।।২৯
অনুবাদ
নাগগণের মধ্যে আমি অনন্ত। জলচরগণের মধ্যে জলদেবতা বরুণ আমি। পিতৃগণের মধ্যে আমি অর্যমা এবং ধর্মানুযায়ী ফলদানের নিয়ন্তাদের মধ্যে আমি যম।
প্রহ্লাদশ্চাস্মি দৈত্যানাং কালঃ কলয়তামহম্।
মৃগাণাঞ্চ মৃগেন্দ্রোহহং বৈনতেয়শ্চ পক্ষিণাম্।।৩০
অনুবাদ
দৈত্যগণের মধ্যে আমি প্রহ্লাদ। গ্রাসকারীদিগের মধ্যে আমি কাল। পশুগণের মধ্যে আমি সিংহ এবং পক্ষিগণের মধ্যে আমি গরুড়।
পবনঃ পবতামস্মি রামঃ শস্ত্রভৃতামহম্।
ঝষাণাং মকরশ্চাস্মি স্রোতসামস্মি জাহ্নবী।।৩১
অনুবাদ
বেগবানদিগের মধ্যে আমি বায়ু। শস্ত্রধারীগণের মধ্যে আমি দশরথি রাম। মৎস্যগণের মধ্যে আমি মকর এবং নদীসমূহের মধ্যে আমি গঙ্গা।
সর্গাণামাদিরন্তশ্চ মধ্যঞ্চৈবাহমর্জুন।
অধ্যাত্মবিদ্যা বিদ্যানাং বাদঃ প্রবদতামহম্।।৩২
অনুবাদ
হে অর্জুন, সৃষ্ট পদার্থমাত্রেরই আদি, মধ্য ও অন্ত আমি। বিদ্যাসমূহের মধ্যে আমি আত্মবিদ্যা বা ব্রহ্মবিদ্যা। তার্কিকগণের বাদ, জল্প ও বিতণ্ডা নামক তর্কসমূহের মধ্যে আমি বাদ।
অক্ষরাণামকারোহস্মি দ্বন্দ্বঃ সামাসিকস্য চ।
অহমেবাক্ষয়ঃ কালো ধাতাহং বিশ্বতোমুখঃ।।৩৩
অনুবাদ
অক্ষরসমূহের মধ্যে আমি আকার। সমাসসমূহের মধ্যে আমি দ্বন্দু। আমিই অক্ষয় কালস্বরূপ এবং আমিই সমুদয় কর্মফলের বিধানকর্তা।
মৃত্যুঃ সর্বহরশ্চাহমুদ্ভবশ্চ ভবিষ্যতাম্।
কীর্তিঃ শ্রীর্বাক্ চ নারীণাং স্মৃতির্মেধা ধৃতিঃ ক্ষমা।।৩৪
অনুবাদ
সংহর্তাদিগের মধ্যে আমি সর্বসংহারক মৃত্যু। ভবিষ্যৎ প্রাণীগণেরও আমি উদ্ভবস্বরূপ। নারীগণের মধ্যে আমি কীর্তি, শ্রী, বাক্, স্মৃতি, মেধা, ধৃতি, ক্ষমা — এই সকল দেবতাস্বরূপ।
বৃহৎসাম তথা সাম্নাং গায়ত্রী ছন্দসামহম্।
মাসানাং মার্গশীর্ষোহহমৃতুনাং কুসুমাকরঃ।।৩৫
অনুবাদ
সামবেদোক্ত মন্ত্রসকলের মধ্যে আমি বৃহৎ সাম। ছন্দোবিশিষ্ট মন্ত্রের মধ্যে আমি গায়ত্রী। দ্বাদশ মাসের মধ্যে আমি অগ্রহায়ণ মাস এবং ঋতুসকলের মধ্যে আমি বসন্ত ঋতু।
দ্যুতং ছলয়তামস্মি তেজস্তেজস্বিনামহম্।
জয়োহস্মি ব্যবসায়োহস্মি সত্ত্বং সত্ত্ববতামহম্।।৩৬
অনুবাদ
কাঞ্চনাকারিগণের দ্যূতক্রীড়া আমি। তেজস্বিগণের তেজঃ আমি। বিজয়ী পুরুষের জয়, উদ্যোগী পুরুষের উদ্যম এবং সাত্ত্বিক পুরুষের সত্ত্বগুণ আমি।
বৃষ্ণীনাং বাসুদেবোহস্মি পাণ্ডবানাং ধনঞ্জয়ঃ।
মুনীনামপ্যহং ব্যাসঃ কবীনামুশনা কবিঃ।।৩৭
অনুবাদ
বৃষ্ণিবংশীয়দিগের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণ আমি। পাণ্ডবগণের মধ্যে ধনঞ্জয়। মুনিগণের মধ্যে ব্যাস এবং কবিগণের মধ্যে শুক্রাচার্য কবি।
দণ্ডো দময়তামস্মি নীতিরস্মি জিগীষতাম্।
মৌনং চৈবাস্মি গুহ্যানাং জ্ঞানং জ্ঞানবতামহম্।।৩৮
অনুবাদ
শাসনকর্তৃগণের দণ্ড আমি। জয়েচ্ছু ব্যক্তিগণের সামাদিনীতি। গুহ্য বিষয়ের মধ্যে মৌন্য এবং জ্ঞানিগণের জ্ঞান আমি।
যচ্চাপি সর্বভূতানাং বীজং তদহমর্জুন।
ন তদস্তি বিনা যৎ স্যান্ময়া ভূতং চরাচরম্।।৩৯
অনুবাদ
হে অর্জুন, সর্বভূতের যাহা বীজস্বরূপ তাহাই আমি। আমা ব্যতীত উদ্ভূত হইতে পারে চরাচরে এমন পদার্থ নাই।
নান্তোহস্তি মম দিব্যানাং বিভূতীনাং পরন্তপ।
এষ তূদ্দেশতঃ প্রোক্তো বিভূতের্বিস্তরো ময়া।।৪০
অনুবাদ
হে পরন্তপ, আমার দিব্য বিভূতিসমূহের অন্ত নাই। আমি এই যাহা কিছু বিভূতিবিস্তার বলিলাম — তাহা আমার বিভূতিসকলের সংক্ষেপ বা দিগদর্শনমাত্র।
যদ্যদ্বিভূতিমৎ সত্ত্বং শ্রীমদূর্জিতমেব বা।
তত্তদেবাবগচ্ছ ত্বং মম তেজোহংশসম্ভবম্।।৪১
অনুবাদ
যাহা যাহা কিছু ঐশ্বর্যযুক্ত, শ্রীসম্পন্ন অথবা অতিশয় শক্তিসম্পন্ন — তাহাই আমার শক্তির অংশসম্ভূত বলিয়া জানিবে।
অথবা বহুনৈতেন কিং জ্ঞাতেন তবার্জুন।
বিষ্টভ্যাহমিদং কৃৎস্নমেকাংশেন স্থিতো জগৎ।।৪২
অনুবাদ
অথবা হে অর্জুন, এত বহু বিভূতিবিস্তার জানিয়া তোমার প্রয়োজন কি? আমি এই সমস্ত জগৎ আমার একাংশমাত্র দ্বারা ধারণ করিয়া অবস্থিত আছি।
ইতি বিভূতিযোগ নামক
দশম অধ্যায় সমাপ্ত।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতোপনিষৎসু ব্রহ্মবিদ্যায়াং
যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে
বিভূতিযোগো নাম দশমোহধ্যায়ঃ