তং তথা কৃপয়াবিষ্টমশ্রুপূর্ণাকুলেক্ষণম্।
বিষীদন্তমিদং বাক্যমুবাচ মধুসূদনঃ।।১
অনুবাদ
সঞ্জয় কহিলেন, কৃপাবিষ্ট, অশ্রুপূর্ণলোচন ও বিষণ্ণ অর্জুনকে দেখিয়া মধুসূদন এই কথা বলিলেন।
কুতত্ত্বা কশ্মলমিদং বিষমে সমুপস্থিতম্।
অনার্যজুষ্টমস্বর্গ্যমকীর্তিকরমর্জুন।।২
অনুবাদ
শ্রীভগবান কহিলেন — হে অর্জুন, এই সংকট সময়ে অনার্য-জনোচিত, স্বর্গ হানিকর, অকীর্তিকর তোমার এই মোহ কোথা হইতে উপস্থিত হইল?
ক্লৈব্যং মাস্ম গমঃ পার্থ নৈতৎ ত্বষ্যুপপদ্যতে।
ক্ষুদ্রং হৃদয়দৌর্বল্যং ত্যত্ত্বোত্তিষ্ঠ পরন্তপ।।৩
অনুবাদ
হে পার্থ, কাতর হইও না। তোমাতে এইরূপ পৌরুষহীনতা শোভা পায় না। হে পরন্তপ, হৃদয়ের তুচ্ছ দুর্বলতা ত্যাগ করিয়া উত্থিত হও।
কথং ভীষ্মমহং সংখ্যে দ্রোণঞ্চ মধুসূদন।
ইষুভিঃ প্রতিযোৎস্যামি পূজাহাবরিসূদন।।৪
অনুবাদ
অর্জুন বলিলেন — হে শত্রুমর্দন মধুসূদন, আমি যুদ্ধকালে পূজনীয় ভীষ্ম ও দ্রোণের সহিত বাণের দ্বারা প্রতিযুদ্ধ করিব?
গুরুনহত্বা হি মহানুভাবান্ শ্রেয়ো ভোজুং ভৈক্ষ্যমপীহলোকে।
হত্বার্থকামাংস্তু গুরুনিহৈব ভুঞ্জীয় ভোগান্ রুধিরপ্রদিগ্ধান্।।৫
অনুবাদ
মহানুভব গুরুজনদিগকে বধ না করিয়া ইহলোকে ভিক্ষান্ন-ভোজন করাও শ্রেয়ঃ। কেননা গুরুজনদিগকে বধ করিয়া যে অর্থকাম ভোগ করিব তাহা রুধির-লিপ্ত।
ন চৈতদ্বিদ্ধঃ কতরন্নো গরীয়ো যদ্বা জয়েম যদি বা নো জয়েয়ুঃ।
যানেব হত্বা ন জিজীবিষামস্তেহবস্থিতাঃ প্রমুখে ধার্তরাষ্ট্রাঃ।।৬
অনুবাদ
আমরা জয়ী হই বা ইহারা আমাদিগকে জয় করুক — কোন্টি এই উভয়ের মধ্যে শ্রেয়স্কর তাহা বুঝিতে পারিতেছি না। যাহাদিগকে বধ করিয়া বাঁচিয়া থাকিতে চাহি না, সেই ধৃতরাষ্ট্র পুত্রগণ সম্মুখে অবস্থিত।
কার্পণ্যদোষোপহতস্বভাবঃ পৃচ্ছামি ত্বাং ধর্মসংমূঢ়চেতাঃ।
যচ্ছেয়ঃ স্যান্নিশ্চিতং ব্রূহি তন্মে শিষ্যস্তেহহং শাধি মাং ত্বাং প্রপন্নম্।।৭
অনুবাদ
চিত্তের দীনতায় আমি অভিভূত হইয়াছি। প্রকৃত ধর্ম কি এ সম্বন্ধে আমার চিত্ত বিমূঢ় হইয়াছে, যাহা আমার ভালো হয় আমাকে নিশ্চিত করিয়া বল। আমি তোমার শিষ্য — তোমার শরণাপন্ন আমাকে উপদেশ দাও।
ন হি প্রপশ্যামি মমাপনুদ্যাদ যচ্ছোকমুচ্ছোষণমিন্দ্রিয়াণাম্।
অবাপ্য ভূমাবসপত্নমৃদ্ধং রাজ্যং সুরাণামপি চাধিপত্যম্।।৮
অনুবাদ
নিষ্কণ্টক সমৃদ্ধ রাজ্য ও সুরলোকের আধিপত্য পৃথিবীতে পাইলেও যে শোক আমার ইন্দ্রিয়গণকে বিশোষণ করিবে তাহা কিসে যাইবে, আমি দেখিতেছি না।
এবমুত্ত্বা হৃষীকেশং গুড়াকেশঃ পরন্তপঃ।
ন যোৎস্য ইতি গোবিন্দমুত্ত্বা তূষ্ণীং বভূব হ।।৯
অনুবাদ
সঞ্জয় বলিলেন — শত্রুতাপন অর্জুন হৃষীকেশ গোবিন্দকে "আমি যুদ্ধ করিব না" এই কথা কহিয়া নীরব হইয়া গেলেন।
তমুবাচ হৃষীকেশঃ প্রহসন্নিব ভারত।
সেনয়োরুভয়োর্মধ্যে বিষীদন্তমিদং বচঃ।।১০
অনুবাদ
হে ভারত, উভয় সেনার মধ্যে বিষাদপ্রাপ্ত অর্জুনকে হাসিয়া হৃষীকেশ এই কথা বলিলেন।
অশোচ্যানন্বশোচস্ত্বং প্রজ্ঞাবাদাংশ্চ ভাষসে।
গতাসূনগতাসূংশ্চ নানুশোচন্তি পণ্ডিতাঃ।।১১
অনুবাদ
তুমি যাহাদিগের জন্য শোক করার কারণ নাই তাহাদিগের জন্য শোক করিতেছ। আবার পণ্ডিতের ন্যায় কথা বলিতেছ। কিন্তু যাঁহারা প্রকৃত তত্ত্বজ্ঞানী তাঁহারা মৃত বা জীবিত কাহারও জন্য শোক করেন না।
ন ত্বেবাহং জাতু নাসং ন ত্বং নেমে জনাধিপাঃ।
ন চৈব ন ভবিষ্যামঃ সর্বে বয়মতঃপরম্।।১২
অনুবাদ
পূর্বে আমি ছিলাম না, বা ছিলে না তুমি বা ছিলেন না এই নৃপতিগণ — এমন নহে। আর পরে আমরা সকলে থাকিব না — তাহাও নহে।
দেহিনোহস্মিন্ যথা দেহে কৌমারং যৌবনং জরা।
তথা দেহান্তরপ্রাপ্তির্ধীরস্তত্র ন মুহ্যতি।।১৩
অনুবাদ
জীবের এই দেহে বাল্য, যৌবন ও বার্ধক্য কালের গতিতে উপস্থিত হয়। তেমনি কালের গতিতে দেহান্তর-প্রাপ্তিও হয়। জ্ঞানিগণ তাহাতে মোহগ্রস্ত হন না।
মাত্রাস্পর্শাস্তু কৌন্তেয় শীতোষ্ণসুখদুঃখদাঃ।
আগমাপায়িনোহনিত্যাস্তাংস্তিতিক্ষস্ব ভারত।।১৪
অনুবাদ
হে কৌন্তেয়, শীতোষ্ণাদি সুখদুঃখ প্রদান করে ইন্দ্রিয়বৃত্তির সহিত বিষয়াদির সংযোগেই। সেগুলি উৎপত্তি হয় একবার, আবার বিনাশ হয় — সুতরাং ওগুলি অনিত্য। অতএব সহ্য কর সে সকল।
যং হিন ব্যথয়ন্ত্যেতে পুরুষং পুরুষর্ষভ।
সমদুঃখসুখং ধীরং সোহমৃতত্বায় কল্পতে।।১৫
অনুবাদ
হে পুরুষশ্রেষ্ঠ, যে স্থিরবুদ্ধি ব্যক্তি এই সকল বিষয়জনিত সুখদুঃখ সমভাবে গ্রহণ করেন, উহাতে বিচলিত হন না — তিনি অমৃতত্ত্ব লাভে সমর্থ হন।
নাসতো বিদ্যতে ভাবো নাভাবো বিদ্যতে সতঃ।
উভয়োরপি দৃষ্টোহন্তস্তত্ত্বনয়োস্তত্ত্বদর্শিভিঃ।।১৬
অনুবাদ
অসৎ বস্তুর ভাব নাই, সৎবস্তুর অভাব নাই — তত্ত্বদর্শিগণ এই সদসৎ উভয়েরই চরম দর্শন করিয়াছেন।
অবিনাশি তু তদ্বিদ্ধি যেন সর্বমিদং ততম্।
বিনাশমব্যয়স্যাস্য ন কশ্চিৎ কর্তুমর্হতি।।১৭
অনুবাদ
যিনি এই সকল ব্যাপিয়া আছেন তাঁহাকে অবিনাশী জানিও। কেহই এই অব্যয় স্বরূপের বিনাশ করিতে পারে না।
অন্তবন্ত ইমে দেহা নিত্যস্যোক্তাঃ শরীরিণঃ।
অনাশিনোহপ্রমেয়স্য তস্মাদ্ যুধ্যস্ব ভারত।।১৮
অনুবাদ
দেহাশ্রিত আত্মার এই সকল দেহ নশ্বর বলিয়া উক্ত হইয়াছে। আত্মা নিত্য, অবিনাশী, অপ্রমেয় — সুতরাং হে অর্জুন, যুদ্ধ কর।
য এনং বেত্তি হন্তারং যশ্চৈনং মন্যতে হতম্।
উভৌ তৌ ন বিজানীতো নায়ং হন্তি ন হন্যতে।।১৯
অনুবাদ
হন্তা বলিয়া জানে যে আত্মাকে এবং যে উহাকে হত বলিয়া মনে করে — তাহারা উভয়েই আত্মতত্ত্ব জানে না। ইনি হত্যা করেন না, হতও হন না।
ন জায়তে ম্রিয়তে বা কদাচিৎ নায়ং ভূত্বাহভবিতা বা ন ভূয়ঃ।
অজো নিত্যঃ শাশ্বতোহয়ং পুরাণো ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে।।২০
অনুবাদ
এই আত্মা কখনও জন্মেন না বা মরেন না। ইনি জন্মরহিত, নিত্য, শাশ্বত এবং পুরাণ — শরীর হত হইলেও ইনি হত হন না।
বেদাবিনাশিনং নিত্যং য এনমজমব্যয়ম্।
কথং স পুরুষঃ পার্থ কং ঘাতয়তি হন্তি কম্।।২১
অনুবাদ
যিনি জানেন আত্মা অবিনাশী, নিত্য, অজ, অব্যয় — হে পার্থ, সে পুরুষ কি প্রকারে কাহাকে হত্যা করেন বা করান?
বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায় নবানি গৃহ্ণাতি নরোহপরাণি।
তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণান্যন্যানি সংযাতি নবানি দেহী।।২২
অনুবাদ
মনুষ্য যেমন পুরানো বস্ত্র পরিত্যাগ করিয়া নব বস্ত্র পরিধান করে — সেইরূপ আত্মাও জীর্ণ শরীর পরিত্যাগ করিয়া নতুন শরীর পরিগ্রহ করেন।
নৈনং ছিন্দন্তি শস্ত্রাণি নৈনং দহতি পাবকঃ।
ন চৈনং ক্লেদয়ন্ত্যাপো ন শোষয়তি মারুতঃ।।২৩
অনুবাদ
ছেদন করিতে পারে না শস্ত্র সকল ইহাকে, অগ্নিতে দহন করিতে পারে না, জলে ভিজাইতে পারে না, বায়ু শুষ্ক করিতে পারে না।
অচ্ছেদ্যোহয়মদাহ্যোহয়মক্লেদ্যোহশোষ্য এব চ।
নিত্যঃ সর্বগতঃ স্থাণুরচলোহয়ং সনাতনঃ।।২৪
অনুবাদ
অচ্ছেদ্য, অদাহ্য, অক্লেদ্য, অশোষ্য এই আত্মা। ইনি নিত্য, সর্বব্যাপী, স্থির, অচল, সনাতন, অব্যক্ত, অচিন্ত্য, অবিকার্য বলিয়া কথিত হন।
অব্যক্তোহয়মচিন্ত্যোহয়মবিকার্য্যোহয়মুচ্যতে।
তস্মাদেবং বিদিত্বৈনং নানুশোচিতুমর্হসি।।২৫
অনুবাদ
আত্মাকে এই প্রকার জানিয়া তোমার শোক করা উচিত নয়।
অথ চৈনং নিত্যজাতং নিত্যং বা মন্যসে মৃতম্।
তথাপি ত্বং মহাবাহো নৈনং শোচিতুমর্হসি।।২৬
অনুবাদ
তুমি যদি মনে কর, আত্মা সর্বদা দেহের সঙ্গে জন্মে এবং দেহের সঙ্গেই বিনষ্ট হয় — তথাপি, হে মহাবাহো, তোমার শোক করা উচিত নয়।
জাতস্য হিধ্রুবো মৃত্যুধ্রুবং জন্ম মৃতস্য চ।
তস্মাদপরিহার্য্যেহর্থে ন ত্বং শোচিতুমর্হসি।।২৭
অনুবাদ
যে জন্মে তাহার মরণ নিশ্চিত, যে মরে তাহার জন্ম নিশ্চিত — সুতরাং অবশ্যম্ভাবী বিষয়ে তোমার শোক করা উচিত নয়।
অব্যক্তাদীনি ভূতানি ব্যক্তমধ্যানি ভারত।
অব্যক্তনিধনান্যেব তত্র কা পরিদেবনা।।২৮
অনুবাদ
হে ভারত, জীবগণ আদিতে অব্যক্ত, মধ্যে ব্যক্ত এবং বিনাশান্তে অব্যক্ত থাকে — তাহাতে শোক বিলাপ কি?
আশ্চর্যবৎ পশ্যতি কশ্চিদেনম্ আশ্চর্যবদ্ বদতি তথৈব চান্যঃ।
আশ্চর্যবচ্চৈনমন্যঃ শৃণোতি শ্রুত্বাপ্যেনং বেদ ন চৈব কশ্চিৎ।।২৯
অনুবাদ
কেহ আত্মাকে আশ্চর্যবৎ কিছু বলিয়া বোধ করেন, কেহ ইহাকে আশ্চর্যবৎ কিছু বলিয়া বর্ণনা করেন, কেহ বা ইনি আশ্চর্যবৎ কিছু — এই প্রকার কথাই শুনেন। কিন্তু শুনিয়াও কেহ ইহাকে জানিতে পারেন না।
দেহী নিত্যমবধ্যোহয়ং দেহে সর্বস্য ভারত।
তস্মাৎ সর্বাণি ভূতানি ন ত্বং শোচিতুমর্হসি।।৩০
অনুবাদ
হে ভারত, জীবসকলের দেহে আত্মা সর্বদাই অবধ্য — অতএব কোনো প্রাণীর জন্যই তোমার শোক করা উচিত নহে।
স্বধর্মমপি চাবেক্ষ্য ন বিকম্পিতুমর্হসি।
ধর্ম্যাদ্ধি যুদ্ধাচ্ছেয়োহন্যৎ ক্ষত্রিয়স্য ন বিদ্যতে।।৩১
অনুবাদ
তোমার স্বধর্মের দিকে দৃষ্টি রাখিয়াও ভীত-কম্পিত হওয়া উচিত নহে। ধর্মযুদ্ধ অপেক্ষা ক্ষত্রিয়ের পক্ষে শ্রেয়ঃ আর কিছু নাই।
যদৃচ্ছয়া চোপপন্নং স্বর্গদ্বারমপাবৃতম্।
সুখিনঃ ক্ষত্রিয়াঃ পার্থ লভন্তে যুদ্ধমীদৃশম্।।৩২
অনুবাদ
হে পার্থ, এই যুদ্ধ আপনা হইতেই উপস্থিত হইয়াছে, ইহা মুক্ত স্বর্গদ্বার স্বরূপ। ভাগ্যবান ক্ষত্রিয়েরাই ঈদৃশ যুদ্ধ লাভ করিয়া থাকেন।
অথ চেৎ ত্বমিমং ধর্ম্যং সংগ্রামং ন করিষ্যসি।
ততঃ স্বধর্মং কীর্তিঞ্চ হিত্বা পাপমবাপ্স্যসি।।৩৩
অনুবাদ
যদি তুমি ধর্মযুদ্ধ না কর, তবে স্বধর্ম ও কীর্তি ত্যাগ করিয়া তুমি পাপযুক্ত হইবে।
অকীর্তিং চাপি ভূতানি কথয়িষ্যন্তি তেহব্যয়াম্।
সম্ভাবিতস্য চাকীর্তিমরণাদতিরিচ্যতে।।৩৪
অনুবাদ
আরও দেখ, সকল লোকে চিরকাল তোমার অকীর্তি ঘোষণা করিবে। সম্মানিত ব্যক্তির পক্ষে অকীর্তি মরণ অপেক্ষাও অধিক।
ভয়াদ্ রণাদুপরতং মংস্যন্তে ত্বাং মহারথাঃ।
যেষাং চ ত্বং বহুমতো ভূত্বা যাস্যসি লাঘবম্।।৩৫
অনুবাদ
মহারথগণ মনে করিবেন, তুমি ভয়বশতঃ যুদ্ধে বিরত হইতেছ। সুতরাং যাঁহারা তোমাকে বহু সম্মান করেন, তাঁহাদিগের নিকট তুমি লঘুতা প্রাপ্ত হইবে।
অবাচ্যবাদাংশ্চ বহুন্ বদিষ্যন্তি তবাহিতাঃ।
নিন্দন্তস্তব সামর্থ্যং ততো দুঃখতরং নু কিম্।।৩৬
অনুবাদ
আমার শত্রুরাও তোমার সামর্থ্যের নিন্দা করিয়া অনেক অবাচ্য কথা বলিবে — তাহা অপেক্ষা অধিক দুঃখকর আর কি আছে?
হতো বা প্রাপ্যসি স্বর্গং জিত্বা বা ভোক্ষ্যসে মহীম্।
তস্মাদুত্তিষ্ঠ কৌন্তেয় যুদ্ধায় কৃতনিশ্চয়ঃ।।৩৭
অনুবাদ
যুদ্ধে হত হইলে স্বর্গ পাইবে, জয়লাভ করিলে পৃথিবী ভোগ করিবে — সুতরাং হে কৌন্তেয়, যুদ্ধে কৃতনিশ্চয় হইয়া উত্থান কর।
সুখদুঃখে সমে কৃত্বা লাভালাভৌ জয়াজয়ৌ।
ততো যুদ্ধায় যুজ্যস্ব নৈবং পাপমবাপ্স্যসি।।৩৮
অনুবাদ
অতএব, সুখদুঃখ, লাভ-অলাভ, জয়-পরাজয় তুল্যজ্ঞান করিয়া যুদ্ধার্থ উন্মুক্ত হও। এইরূপ করিলে আর পাপী হইবে না।
এষা তেহভিহিতা সাংখ্যে বুদ্ধির্যোগে ত্বিমাং শৃণু।
বুদ্ধ্যা যুক্তো যয়া পার্থ কর্মবন্ধং প্রহাস্যসি।।৩৯
অনুবাদ
হে পার্থ, তোমাকে এতক্ষণ সাংখ্যনিষ্ঠ-বিষয়ক জ্ঞান উপদেশ দিলাম, এখন যোগবিষয়ক জ্ঞান শ্রবণ কর — এই জ্ঞান লাভ করিলে কর্মবন্ধন ত্যাগ করিতে পারিবে।
নেহাভিক্রমনাশোহস্তি প্রত্যবায়ো ন বিদ্যতে।
স্বল্পমপ্যস্য ধর্মস্য ত্রায়তে মহতো ভয়াৎ।।৪০
অনুবাদ
আরব্ধ কর্ম ইহাতে নিষ্ফল হয় না এবং পাপ বা বিঘ্ন হয় না। এই কর্মের অল্প আচরণও মহাভয় হইতে ত্রাণ করে।
ব্যবসায়াত্মিকা বুদ্ধিরেকেহ কুরুনন্দন।
বহুশাখা হ্যনন্তাশ্চ বুদ্ধয়োহব্যবসায়িনাম্।।৪১
অনুবাদ
ইহাতে ব্যবসায়াত্মিকা বুদ্ধি একই হয় অর্থাৎ একনিষ্ঠ থাকে। কিন্তু অব্যবসায়ীদিগের বুদ্ধি বহুশাখাবিশিষ্ট ও অনন্ত।
যামিমাং পুষ্পিতাং বাচং প্রবদন্ত্যবিপশ্চিতঃ।
বেদবাদরতাঃ পার্থ নান্যদস্তীতিবাদিনঃ।।৪২
অনুবাদ
হে পার্থ, অল্পবুদ্ধি ব্যক্তিগণ বেদের কর্মকাণ্ডের স্বর্গফলাদি প্রকাশক প্রীতিকর বাক্যে অনুরক্ত।
কামাত্মানঃ স্বর্গপরা জন্মকর্মফলপ্রদাম্।
ক্রিয়াবিশেষবহুলাং ভোগৈশ্বর্যগতিং প্রতি।।৪৩
অনুবাদ
কামনাকুল চিত্ত যাহাদের স্বর্গই পরম পুরুষার্থ — এরূপ ব্যক্তিগণ জন্মরূপ কর্মফল প্রদানকারী ভোগ ও ঐশ্বর্য লাভের উপায়ভূত বিবিধ ক্রিয়া-কলাপের প্রশংসাসূচক আপাত মনোরম বেদবাক্য বলিয়া থাকে।
ভোগৈশ্বর্যপ্রসক্তানাং তয়াপহৃতচেতসাম্।
ব্যবসায়াত্মিকা বুদ্ধিঃ সমাধৌ ন বিধীয়তে।।৪৪
অনুবাদ
এই সকল শ্রবণরমনীয় বাক্য দ্বারা অপহৃতচিত্ত, ভোগৈশ্বর্যে আসক্ত ব্যক্তিগণের কার্যাকার্য-নির্ণায়ক বুদ্ধি এক বিষয়ে স্থির থাকিতে পারে না।
ত্রৈগুণ্যবিষয়া বেদা নিস্ত্রৈগুণ্যো ভবার্জুন।
নির্দ্বন্দো নিত্যসত্ত্বস্থো নির্যোগক্ষেম আত্মবান্।।৪৫
অনুবাদ
হে অর্জুন, বেদসমূহ ত্রৈগুণ্য-বিষয়ক। তুমি নিস্ত্রৈগুণ্য হও — নির্দ্বন্দ, নিত্যসত্ত্বস্থ, যোগক্ষেমরহিত ও আত্মবান হও।
যাবানর্থ উদপানে সর্বতঃ সংপ্লুতোদকে।
তাবান্ সর্বেষু বেদেষু ব্রাহ্মণস্য বিজানতঃ।।৪৬
অনুবাদ
ব্যাপ্ত কূপতড়াগাদি ক্ষুদ্র জলাশয়ে যে প্রয়োজন সিদ্ধ হয়, এক বিস্তীর্ণ মহাজলাশয়ে সেই সমস্তই সিদ্ধ হয়। সেইরূপ বেদোক্ত কাম্যকর্মে যে ফল লাভ হয়, ব্রহ্মবেত্তা পুরুষের সেই সমস্তই লাভ হয়।
কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন।
মা কর্মফলহেতুর্ভূর্মা তে সঙ্গোহত্ত্বকর্মণি।।৪৭
অনুবাদ
তোমার অধিকার কর্মেই, কর্মফলে কখনও তোমার অধিকার নাই। কর্মফল যেন তোমার কর্মপ্রবৃত্তির হেতু না হয়, কর্মত্যাগও যেন তোমার প্রবৃত্তি না হয়।
যোগস্থঃ কুরু কর্মাণি সঙ্গং ত্যত্ত্বা ধনঞ্জয়।
সিদ্ধ্যসিদ্ধ্যোঃ সমো ভূত্বা সমত্বং যোগ উচ্যতে।।৪৮
অনুবাদ
হে ধনঞ্জয়, যোগস্থ হইয়া ফলাসক্তি বর্জন করিয়া, সিদ্ধি ও অসিদ্ধি তুল্যজ্ঞান করিয়া তুমি কর্ম কর। এইরূপ সমত্ব বুদ্ধিকেই যোগ কহে।
দূরেণ হাবরং কর্ম বুদ্ধিযোগাদ্ ধনঞ্জয়।
বুদ্ধৌ শরণমন্বিচ্ছ কৃপণাঃ ফলহেতবঃ।।৪৯
অনুবাদ
হে ধনঞ্জয়, কেবল বাহ্যকর্ম বুদ্ধিযোগ অপেক্ষা নিতান্তই নিকৃষ্ট। অতএব তুমি সমত্ববুদ্ধির আশ্রয় নাও। যাহারা ফলের উদ্দেশ্যে কর্ম করে তাহারা দীন, কৃপার পাত্র।
বুদ্ধিযুক্তো জহাতীহ উভে সুকৃতদুষ্কৃতে।
তস্মাদ্ যোগায় যুজ্যস্ব যোগঃ কর্মসু কৌশলম্।।৫০
অনুবাদ
সমত্ববুদ্ধিযুক্ত নিষ্কাম কর্মী ইহলোকেই সুকৃত দুষ্কৃত উভয়ই ত্যাগ করেন। সুতরাং তুমি যোগের অনুষ্ঠান কর — কর্মে কৌশলই যোগ।
কর্মজং বুদ্ধিযুক্তা হি ফলং ত্যত্ত্বা মনীষিণঃ।
জন্মবন্ধবিনির্মুক্তাঃ পদং গচ্ছন্ত্যনাময়ম্।।৫১
অনুবাদ
সমত্ববুদ্ধিযুক্ত জ্ঞানিগণ কর্মজনিত বন্ধনে আবদ্ধ হন না। জন্মরূপ বন্ধন অর্থাৎ সংসার বন্ধন হইতে মুক্ত হইয়া সর্বপ্রকার উপদ্রবরহিত মোক্ষপদ প্রাপ্ত হন।
যদা তে মোহকলিলং বুদ্ধির্ব্যতিতরিষ্যতি।
তদা গন্তাসি নির্বেদং শ্রোতব্যস্য শ্রুতস্য চ।।৫২
অনুবাদ
বুদ্ধি মোহরূপ গহনকানন অতিক্রম করিবে যখন তোমার, তখন তুমি শ্রুত ও শ্রোতব্য বিষয়ে বৈরাগ্য প্রাপ্ত হইবে।
শ্রুতিবিপ্রতিপন্না তে যদা স্থাস্যতি নিশ্চলা।
সমাধাবচলা বুদ্ধিস্তদা যোগমবাপ্স্যসি।।৫৩
অনুবাদ
যখন লৌকিক ও বৈদিক নানাবিধ ফলকথা শ্রবণে বিক্ষিপ্ত তোমার বুদ্ধি সমাধিতে নিশ্চল হইয়া থাকিবে — তখন তুমি যোগ প্রাপ্ত হইবে।
স্থিতপ্রজ্ঞস্য কা ভাষা সমাধিস্থস্য কেশব।
স্থিতধীঃ কিং প্রভাষেত কিমাসীত ব্রজেত কিম্।।৫৪
অনুবাদ
অর্জুন বলিলেন — হে কেশব, যিনি সমাধিস্থ হইয়া স্থিতপ্রজ্ঞ হইয়াছেন তাঁহার লক্ষণ কি? স্থিতধী ব্যক্তি কিরূপ কথা বলেন? কিরূপে অবস্থান করেন ও কিরূপ চলেন?
প্রজহাতি যদা কামান্ সর্বান্ পার্থ মনোগতান্।
আত্মন্যেবাত্মনা তুষ্টঃ স্থিতপ্রজ্ঞস্তদোচ্যতে।।৫৫
অনুবাদ
শ্রীভগবান বলিলেন — হে পার্থ, যখন কেহ সমস্ত মনোগত কামনা বর্জন করিয়া আপনাতেই আপনি তুষ্ট থাকেন, তখন তিনি স্থিতপ্রজ্ঞ বলিয়া কথিত হন।
দুঃখেষ্বনুদ্বিগ্নমনাঃ সুখেষু বিগতস্পৃহঃ।
বীতরাগভয়ক্রোধঃ স্থিতধীর্মুনিরুচ্যতে।।৫৬
অনুবাদ
যিনি দুঃখে উদ্বেগশূন্য, সুখে স্পৃহাশূন্য, অনুরাগ, ভয় এবং ক্রোধ যাঁহার নিবৃত্ত — তাঁহাকেই স্থিতধী মুনি বলা হয়।
যঃ সর্বত্রানভিস্নেহস্তত্তৎ প্রাপ্য শুভাশুভম্।
নাভিনন্দতি ন দ্বেষ্টি তস্য প্রজ্ঞা প্রতিষ্ঠিতা।।৫৭
অনুবাদ
মমতাশূন্য যিনি সকল বিষয়েই — শুভ-প্রাপ্তিতে সন্তোষ বা অশুভ-প্রাপ্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন না — তিনিই স্থিতপ্রজ্ঞ।
যদা সংহরতে চায়ং কূর্মোহঙ্গানীব সর্বশঃ।
ইন্দ্রিয়াণীন্দ্রিয়ার্থেভ্যস্তস্য প্রজ্ঞা প্রতিষ্ঠিতা।।৫৮
অনুবাদ
কচ্ছপ যেমন কর-চরণাদি অঙ্গ সকল সঙ্কুচিত করিয়া রাখে — তেমনি যিনি রূপরসাদি ইন্দ্রিয়ের বিষয় হইতে ইন্দ্রিয়সকল সংহরণ করিয়া লন, তিনিই স্থিতপ্রজ্ঞ।
বিষয়া বিনিবর্তন্তে নিরাহারস্য দেহিনঃ।
রসবর্জং রসোহপ্যস্য পরং দৃষ্টা নিবর্ততে।।৫৯
অনুবাদ
ইন্দ্রিয়দ্বারা বিষয়গ্রহণে অপ্রবৃত্ত ব্যক্তির বিষয়ভোগ নিবৃত্ত হয় বটে, কিন্তু বিষয়তৃষ্ণা নিবৃত্ত হয় না। কিন্তু সেই পরম পুরুষকে দেখিয়া স্থিতপ্রজ্ঞ ব্যক্তির বিষয়-বাসনা নিবৃত্ত হয়।
যততো হ্যপি কৌন্তেয় পুরুষস্য বিপশ্চিতঃ।
ইন্দ্রিয়াণি প্রমাথীনি হরন্তি প্রসভং মনঃ।।৬০
অনুবাদ
হে কৌন্তেয়, প্রমাথী ইন্দ্রিয়গণ সংযমে যত্নশীল, বিবেকী পুরুষেরও চিত্তকে বলপূর্বক হরণ করে।
তানি সর্বাণি সংযম্য যুক্ত আসীত মৎপরঃ।
বশে হি যস্যেন্দ্রিয়াণি তস্য প্রজ্ঞা প্রতিষ্ঠিতা।।৬১
অনুবাদ
আমার অনুগত ভক্ত যিনি, তিনি সেই সকল ইন্দ্রিয়কে সংযত করিয়া আমাতে চিত্ত সমাহিত করিয়া অবস্থান করেন। তাদৃশ সমাহিতচিত্ত ব্যক্তিরই ইন্দ্রিয়সকল বশীভূত হয় — তিনিই স্থিতপ্রজ্ঞ।
ধ্যায়তো বিষয়ান্ পুংসঃ সঙ্গস্তেষূপজায়তে।
সঙ্গাৎ সঞ্জায়তে কামঃ কামাৎ ক্রোধোহভিজায়তে।।৬২
অনুবাদ
বিষয়-চিন্তা করিতে করিতে মনুষ্যের তাহাতে আসক্তি জন্মে। আসক্তি হইতে কামনা অর্থাৎ সেই বিষয় লাভের অভিলাষ জন্মে। সেই কামনা প্রতিহত হইলে ক্রোধ জন্মে।
ক্রোধাদ্ ভবতি সম্মোহঃ সম্মোহাৎ স্মৃতিবিভ্রমঃ।
স্মৃতিভ্রংশাদ্ বুদ্ধিনাশো বুদ্ধিনাশাৎ প্রণশ্যতি।।৬৩
অনুবাদ
ক্রোধ হইতে সম্মোহ, সম্মোহ হইতে স্মৃতিভ্রংশ, স্মৃতিভ্রংশ হইতে বুদ্ধিনাশ, বুদ্ধিনাশ হইতে বিনাশ ঘটে।
রাগদ্বেষবিযুক্তৈস্তু বিষয়ানিন্দ্রিয়ৈশ্চরন্।
আত্মবশ্যৈর্বিধেয়াত্মা প্রসাদমধিগচ্ছতি।।৬৪
অনুবাদ
কিন্তু যিনি বিধেয়াত্মা অর্থাৎ যাঁহার মন নিজের বশবর্তী, তিনি অনুরাগ ও বিদ্বেষ হইতে বিমুক্ত, আত্মবশীভূত ইন্দ্রিয়গণ দ্বারা বিষয় উপভোগ করিয়া আত্মপ্রসাদ লাভ করেন।
প্রসাদে সর্বদুঃখানাং হানিরস্যোপজায়তে।
প্রসন্নচেতসো হ্যাশু বুদ্ধিঃ পর্যবতিষ্ঠতে।।৬৫
অনুবাদ
চিত্তপ্রসাদ জন্মিলে এই পুরুষের সমস্ত দুঃখের নিবৃত্তি হয়। যেহেতু প্রসন্নচিত্ত ব্যক্তির বুদ্ধি শীঘ্র উপাস্থে স্থিতি লাভ করে।
নাস্তি বুদ্ধিরযুক্তস্য ন চাযুক্তস্য ভাবনা।
ন চাভাবয়তঃ শান্তিরশান্তস্য কুতঃ সুখম্।।৬৬
অনুবাদ
যাঁহার চিত্ত অসমাহিত ও ইন্দ্রিয় অবশীভূত, তাঁহার আত্মবিষয়া বুদ্ধিও হয় না, চিন্তাও হয় না। যাঁহার চিন্তা নাই, তাঁহার শান্তি নাই। যাঁহার শান্তি নাই, তাঁহার সুখ কোথায়?
ইন্দ্রিয়াণাং হি চরতাং যন্মনোহনুবিধীয়তে।
তদস্য হরতি প্রজ্ঞাং বায়ুর্নাবমিবাম্ভসি।।৬৭
অনুবাদ
মন বিষয়ে প্রবর্তমান ইন্দ্রিয়গণের সেটিকে অনুবর্তন করে — সেই একটি ইন্দ্রিয়ই, যেমন বায়ু জলের উপরিস্থিত নৌকাকে বিচলিত করে, তদ্রূপ উহার প্রজ্ঞা হরণ করে।
তস্মাদ্ যস্য মহাবাহো নিগৃহীতানি সর্বশঃ।
ইন্দ্রিয়াণীন্দ্রিয়ার্থেভ্যস্তস্য প্রজ্ঞা প্রতিষ্ঠিতা।।৬৮
অনুবাদ
হে মহাবাহো, সেই হেতু যাহার ইন্দ্রিয় সর্বপ্রকারে বিষয় হইতে নিবৃত্ত হইয়াছে — তাহারই প্রজ্ঞা স্থির হইয়াছে।
যা নিশা সর্বভূতানাং তস্যাং জাগর্তি সংযমী।
যস্যাং জাগ্রতি ভূতানি সা নিশা পশ্যতো মুনেঃ।।৬৯
অনুবাদ
সাধারণ প্রাণীগণের পক্ষে যাহা নিশাস্বরূপ, তাহাতে সংযমী ব্যক্তি জাগরিত থাকে। আত্মদর্শী মুনিদিগের পক্ষে সাধারণের জাগরণকাল রাত্রিস্বরূপ।
আপূর্যমাণমচলপ্রতিষ্ঠং সমুদ্রমাপঃ প্রবিশন্তি যদ্বৎ।
তদ্বৎ কামা যং প্রবিশন্তি সর্বে স শান্তিমাপ্নোতি ন কামকামী।।৭০
অনুবাদ
যেমন নদ-নদীর জলে পরিপূরিত প্রশান্ত সমুদ্রে অপর জলরাশি আসিয়া প্রবেশ করিয়াও কোনোরূপ চিত্তক্ষোভ উৎপন্ন করে না — তিনি শান্তিলাভ করেন। যিনি ভোগ কামনা করেন, তিনি শান্তি পান না।
বিহায় কামান্ যঃ সর্বান্ পুমাংশ্চরতি নিঃস্পৃহঃ।
নির্মমো নিরহঙ্কারঃ স শান্তিমধিগচ্ছতি।।৭১
অনুবাদ
সমস্ত কামনা ত্যাগ করিয়া নিস্পৃহ হইয়া বিচরণ করেন যে ব্যক্তি, যিনি মমতাশূন্য ও অহঙ্কারশূন্য — তিনিই শান্তি প্রাপ্ত হন।
এষা ব্রাহ্মী স্থিতিঃ পার্থ নৈনাং প্রাপ্য বিমুহ্যতি।
স্থিত্বাহস্যামন্তকালেহপি ব্রহ্মনির্বাণমৃচ্ছতি।।৭২
অনুবাদ
হে পার্থ, ইহাই ব্রাহ্মস্থিতি। এই অবস্থা প্রাপ্ত হইলে জীবের আর মোহ হয় না। মৃত্যুকালেও এই অবস্থায় থাকিয়া তিনি ব্রহ্মনির্বাণ বা ব্রহ্মে মিলনরূপ মোক্ষলাভ করেন।
ইতি সাংখ্যযোগ নামক
দ্বিতীয় অধ্যায় সমাপ্ত।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতোপনিষৎসু ব্রহ্মবিদ্যায়াং
যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে
সাংখ্যযোগো নাম দ্বিতীয়োহধ্যায়ঃ