ইমং বিবস্বতে যোগং প্রোক্তবানহমব্যয়ম্।
বিবস্বান্ মনবে প্রাহ মনুরিক্ষাকবেহব্রবীৎ।।১
অনুবাদ
শ্রীভগবান কহিলেন — আমি সূর্যকে এই অব্যয়যোগ বলিয়াছিলাম। সূর্য মনুকে এবং মনু ইক্ষাকুকে বলিয়াছিলেন।
এবং পরম্পরাপ্রাপ্তমিমং রাজর্ষয়ো বিদুঃ।
স কালেনেহ মহতা যোগো নষ্টঃ পরন্তপ।।২
অনুবাদ
এইরূপে পুরুষ পরম্পরাপ্রাপ্ত এই যোগ রাজর্ষিগণ বিদিত ছিলেন। হে পরন্তপ, ইহলোকে সেই যোগ দীর্ঘকালবশে নষ্ট হইয়াছে।
স এবায়ং ময়া তেহদ্য যোগঃ প্রোক্তঃ পুরাতনঃ।
ভক্তোহসি মে সখা চেতি রহস্যং হ্যেতদুত্তমম্।।৩
অনুবাদ
আমার ভক্ত ও সখা তুমি, তাই পুরাতন যোগ অদ্য তোমাকে বলিলাম — কারণ ইহা উত্তম গুহ্যতত্ত্ব।
অপরং ভবতো জন্ম পরং জন্ম বিবস্বতঃ।
কথমেতদ্বিজানীয়াং ত্বমাদৌ প্রোক্তবানিতি।।৪
অনুবাদ
অর্জুন কহিলেন — পরে আপনার জন্ম, পূর্বে জন্ম বিবস্বানের। সুতরাং কীরূপে বুঝিব যে পূর্বে ইহা আপনি বলিয়াছিলেন?
বহুনি মে ব্যতীতানি জন্মানি তব চার্জুন।
তান্যহং বেদ সর্বাণি ন ত্বং বেথ পরন্তপ।।৫
অনুবাদ
শ্রীভগবান কহিলেন — হে অর্জুন, আমার ও তোমার বহু জন্ম অতীত হইয়াছে। আমি সে সকল জানি, হে পরন্তপ, তুমি জান না।
অজোহপি সন্নব্যয়াত্মা ভূতানামীশ্বরোহপি সন্।
প্রকৃতিং স্বামধিষ্ঠায় সম্ভবাম্যাত্মমায়য়া।।৬
অনুবাদ
আমি জন্মরহিত, অবিনশ্বর এবং সর্বভূতের ঈশ্বর হইয়াও স্বীয় প্রকৃতিতে অধিষ্ঠান করিয়া আত্মমায়ায় আবির্ভূত হই।
যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্।।৭
অনুবাদ
হে ভারত, ধর্মের গ্লানি যখনই এবং অধর্মের অভ্যুত্থান হয় — আমি সেই সময়ে নিজেকে সৃষ্টি করি।
পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।৮
অনুবাদ
সাধুগণের পরিত্রাণ, দুষ্টদিগের বিনাশ এবং ধর্মসংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।
জন্মকর্ম চ মে দিব্যমেবং যো বেত্তি তত্ত্বতঃ।
ত্যক্ত্বা দেহং পুনর্জন্ম নৈতি মামেতি সোহর্জুন।।৯
অনুবাদ
হে অর্জুন, আমার এই দিব্য জন্ম ও কর্ম যিনি তত্ত্বতঃ জানেন, তিনি দেহত্যাগ করিয়া পুনর্বার আর জন্মপ্রাপ্ত হন না — তিনি আমাকেই প্রাপ্ত হন।
বীতরাগভয়ক্রোধা মন্ময়া মামুপাশ্রিতাঃ।
বহবো জ্ঞানতপসা পূতা মদ্ভাবমাগতাঃ।।১০
অনুবাদ
বিষয়ানুরাগ, ভয় ও ক্রোধ বর্জন করিয়া, আমাতে একাগ্রচিত ও আমার শরণাপন্ন হইয়া, জ্ঞানময় তপস্যাদ্বারা পবিত্র হইয়া অনেকে আমার পরমানন্দভাবে চিরস্থিতি লাভ করিয়াছেন।
যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্।
মম বর্ত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ।।১১
অনুবাদ
হে পার্থ, যে আমাকে যেভাবে উপাসনা করে, আমি তাহাকে সেই ভাবেই তুষ্ট করি। মনুষ্যগণ সর্বপ্রকারে আমার পথেরই অনুসরণ করে।
কাঙ্ক্ষন্তঃ কর্মণাং সিদ্ধিং যজন্ত ইহ দেবতাঃ।
ক্ষিপ্রং হি মানুষে লোকে সিদ্ধির্ভবতি কর্মজা।।১২
অনুবাদ
যাহারা কর্মসিদ্ধি কামনা করে তাহারা দেবতা পূজা করে, কেননা মনুষ্যলোকে কর্মজনিত ফললাভ শীঘ্রই পাওয়া যায়।
চাতুর্বর্ণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ।
তস্য কর্তারমপি মাং বিদ্ধ্যকর্তারমব্যয়ম্।।১৩
অনুবাদ
আমি বর্ণচতুষ্টয় গুণ ও কর্মের বিভাগ অনুসারে সৃষ্টি করিয়াছি, কিন্তু আমি উহার সৃষ্টিকর্তা হইলেও আমাকে অকর্তা ও বিকারবহিত বলিয়াই জানিও।
ন মাং কর্মাণি লিম্পন্তি ন মে কর্মফলে স্পৃহা।
ইতি মাং যোহভিজানাতি কর্মভির্ন স বধ্যতে।।১৪
অনুবাদ
আমাকে লিপ্ত করিতে পারে না কর্মসকল, কর্মফলে আমার স্পৃহাও নাই। এইরূপে যিনি আমাকে জানেন, তিনি কর্মদ্বারা আবদ্ধ হন না।
এবং জ্ঞাত্বা কৃতং কর্ম পূর্বৈরপি মুমুক্ষুভিঃ।
কুরু কর্মৈব তস্মাত্ত্বং পূর্বৈঃ পূর্বতরং কৃতম্।।১৫
অনুবাদ
পূর্ববর্তী মোক্ষাভিলাষিগণ এইরূপ জানিয়াই কর্ম করিয়াছেন। তুমিও পূর্ববর্তিগণের পূর্বকালে আচরিত কর্মসকল কর।
কিং কর্ম কিমকর্মেতি কবয়োহপ্যত্র মোহিতাঃ।
তত্তে কর্ম প্রবক্ষ্যামি যজ্জ্ঞাত্বা মোক্ষ্যসেহশুভাৎ।।১৬
অনুবাদ
কর্ম কি, কর্মশূন্যতাই বা কি — এ বিষয়ে পণ্ডিতেরাও মোহপ্রাপ্ত হন। অতএব কর্ম কি তাহা তোমাকে বলিতেছি — তাহা জানিলে অশুভ হইতে মুক্ত হইবে।
কর্মণো হ্যপি বোদ্ধব্যং বোদ্ধব্যঞ্চ বিকর্মণঃ।
অকর্মণশ্চ বোদ্ধব্যং গহনা কর্মণো গতিঃ।।১৭
অনুবাদ
বুঝিবার বিষয় আছে বিহিত কর্মেরও, বিকর্ম বা অবিহিত কর্মেরও বুঝিবার বিষয় আছে, অকর্ম বা কর্মত্যাগ সম্বন্ধেও বুঝিবার বিষয় আছে — কেননা কর্মের গতি দুর্জেয়।
কর্মণ্যকর্ম যঃ পশ্যেদকর্মণি চ কর্ম যঃ।
স বুদ্ধিমান্ মনুষ্যেষু স যুক্তঃ কৃৎস্নকর্মকৃৎ।।১৮
অনুবাদ
কর্মে যিনি অকর্ম ও অকর্মে কর্ম দেখেন — মনুষ্যের মধ্যে তিনিই বুদ্ধিমান, তিনি যোগী, তিনি সর্বকর্মকারী।
যস্য সর্বে সমারম্ভাঃ কামসঙ্কল্পবর্জিতাঃ।
জ্ঞানাগ্নিদগ্ধকর্মাণং তমাহুঃ পণ্ডিতং বুধাঃ।।১৯
অনুবাদ
সমস্ত কর্মচেষ্টাই ফলতৃষ্ণা ও কর্তৃত্বাভিমানবর্জিত যাঁহার, সুতরাং যাঁহার কর্ম জ্ঞানরূপ অগ্নিদ্বারা দগ্ধ হইয়াছে — সেইরূপ ব্যক্তিকে জ্ঞানিগণ পণ্ডিত বলিয়া থাকেন।
ত্যক্ত্বা কর্মফলাসঙ্গং নিত্যতৃপ্তো নিরাশ্রয়ঃ।
কর্মণ্যভিপ্রবৃত্তোহপি নৈব কিঞ্চিৎ করোতি সঃ।।২০
অনুবাদ
কর্মে ও কর্মফলে যিনি আসক্তি পরিত্যাগ করিয়াছেন, সদা যিনি নিজেই পরিতৃপ্ত, কোনো প্রয়োজনে যিনি কারোর আশ্রয় গ্রহণ করেন না — কর্মে প্রবৃত্ত হইলেও তিনি কিছুই করেন না।
নিরাশীর্যতচিত্তাত্মা ত্যক্তসর্বপরিগ্রহঃ।
শারীরং কেবলং কর্ম কুর্বন্নাপ্নোতি কিল্বিষম্।।২১
অনুবাদ
কামনা যিনি ত্যাগ করিয়াছেন, সংযত যাঁহার চিত্ত ও ইন্দ্রিয়, বর্জন করিয়াছেন যিনি সব রকমের দল ও উপহারাদি — এইরূপ ব্যক্তি কেবল শরীরদ্বারা কর্মানুষ্ঠান করিয়াও পাপভোগী হন না।
যদৃচ্ছালাভসন্তুষ্টো দ্বন্দ্বাতীতো বিমৎসরঃ।
সমঃ সিদ্ধাবসিদ্ধৌ চ কৃত্বাপি ন নিবধ্যতে।।২২
অনুবাদ
বিশেষ চেষ্টায় যিনি প্রার্থনা করেন না, যা প্রাপ্ত হওয়া যায় তাহাতেই সন্তুষ্ট থাকেন, দ্বন্দুসহিষ্ণু, মাৎসর্যশূন্য, সিদ্ধি ও অসিদ্ধি তুল্যজ্ঞান করেন — কর্ম করিয়াও তিনি কর্মফলে আবদ্ধ হন না।
গতসঙ্গস্য মুক্তস্য জ্ঞানাবস্থিতচেতসঃ।
যজ্ঞায়াচরতঃ কর্ম সমগ্রং প্রবিলীয়তে।।২৩
অনুবাদ
ফলাকাঙ্ক্ষাবর্জিত, রাগদ্বেষাদিমুক্ত, যাঁহার চিত্ত আত্মজ্ঞানে নিবিষ্ট, যিনি যজ্ঞার্থ কর্ম করেন — তাঁহার কর্মসকল ফলসহ বিনষ্ট হইয়া সে কর্মের কোনো সংস্কার থাকে না।
ব্রহ্মার্পণং ব্রহ্ম হবির্ব্রহ্মাগ্নৌ ব্রহ্মণা হুতম্।
ব্রহ্মৈব তেন গন্তব্যং ব্রহ্মকর্মসমাধিনা।।২৪
অনুবাদ
অর্পণ ব্রহ্ম, ঘৃতাদি হবি ব্রহ্ম, অগ্নি ব্রহ্ম, যিনি হোম করেন তিনিও ব্রহ্ম — এইরূপ জ্ঞানে ব্রহ্মরূপ কর্মে একাগ্রচিত্ত পুরুষ ব্রহ্মাই প্রাপ্ত হন।
দৈবমেবাপরে যজ্ঞং যোগিনঃ পর্যুপাসতে।
ব্রহ্মাগ্নাবপরে যজ্ঞং যজ্ঞেনৈবোপজুহ্বতি।।২৫
অনুবাদ
দৈবযজ্ঞের অনুষ্ঠান করেন অন্য কোনো কোনো যোগিগণ। ব্রহ্মরূপ অগ্নিতে অপর কেহ কেহ যজ্ঞদ্বারাই যজ্ঞার্পণ করেন।
শ্রোত্রাদীনীন্দ্রিয়াণ্যন্যে সংযমাগ্নিষু জুহ্বতি।
শব্দাদীন্ বিষয়ানন্য ইন্দ্রিয়াগ্নিষু জুহ্বতি।।২৬
অনুবাদ
অন্যে সংযমরূপ অগ্নিতে চক্ষুকর্ণাদি ইন্দ্রিয়সমূহকে হোম করেন — ইন্দ্রিয়গুলিকে রূপরসাদি বিষয় হইতে প্রত্যাহার করিয়া সংযতেন্দ্রিয় হইয়া অবস্থান করেন। ইহাকে সংযমযজ্ঞ বলা হয়।
সর্বাণীন্দ্রিয়কর্মাণি প্রাণকর্মাণি চাপরে।
আত্মসংযমযোগাগ্নৌ জুহ্বতি জ্ঞানদীপিতে।।২৭
অনুবাদ
অন্য কেহ সমস্ত ইন্দ্রিয়কর্ম ও সমস্ত প্রাণকর্মকে ব্রহ্মজ্ঞানে দীপিত আত্মসংযম বা সমাধিরূপ যোগাগ্নিতে হোম করেন। পঞ্চজ্ঞানেন্দ্রিয়, পঞ্চকর্মেন্দ্রিয় ও পঞ্চপ্রাণের সমস্ত কর্ম নিরোধ করিয়া আত্মানন্দে মগ্ন থাকেন। ইহার নাম আত্মসংযম বা সমাধিযজ্ঞ।
দ্রব্যযজ্ঞাস্তপোযজ্ঞা যোগযজ্ঞাস্তথাপরে।
স্বাধ্যায়জ্ঞানযজ্ঞাশ্চ যতয়ঃ সংশিতব্রতাঃ।।২৮
অনুবাদ
কেহ কেহ দ্রব্যদানরূপ যজ্ঞ করেন, কেহ তপোরূপ যজ্ঞ করেন, কেহ যোগরূপ যজ্ঞ করেন, কোনো কোনো দৃঢ়ব্রত যতিগণ বেদাভ্যাসরূপ যজ্ঞ করেন, কেহ বেদার্থপরিজ্ঞানরূপ যজ্ঞ সম্পাদন করেন।
অপানে জুহ্বতি প্রাণং প্রাণেহপানং তথাপরে।
প্রাণাপানগতী রুদ্ধ্বা প্রাণায়ামপরায়ণাঃ।।২৯
অনুবাদ
অন্য যোগিগণ অপানবায়ুতে প্রাণবায়ু আহুতি প্রদান করেন, প্রাণে অপানের আহুতি দেন। অপর কেহ পরিমিতাহারী হইয়া প্রাণ ও অপানের গতি রোধপূর্বক প্রাণায়াম পরায়ণ হইয়া ইন্দ্রিয়গণকে প্রাণে আহুতি দেন।
অপরে নিয়তাহারাঃ প্রাণান্ প্রাণেষু জুহ্বতি।
সর্বেহপ্যেতে যজ্ঞবিদো যজ্ঞক্ষপিতকল্মষাঃ।।৩০
অনুবাদ
এই যজ্ঞবিদ্গণ সকলেই যজ্ঞদ্বারা নিষ্পাপ হইয়া থাকেন। যাঁহারা অমৃতস্বরূপ যজ্ঞাবশিষ্ট অন্ন ভোজন করেন, তাঁহারা সনাতন ব্রহ্মপদ লাভ করেন।
যজ্ঞশিষ্টামৃতভুজো যান্তি ব্রহ্ম সনাতনম্।
নায়ং লোকোহস্ত্যযজ্ঞস্য কুতোহন্যঃ কুরুসত্তম।।৩১
অনুবাদ
হে কুরুশ্রেষ্ঠ, যে কোনোরূপ যজ্ঞই করে না — তাহার ইহলোকই নাই, পরলোক তো দূরের কথা।
এবং বহুবিধা যজ্ঞা বিততা ব্রহ্মণো মুখে।
কর্মজান্ বিদ্ধি তান্ সর্বানেবং জ্ঞাত্বা বিমোক্ষ্যসে।।৩২
অনুবাদ
বহুবিধ যজ্ঞ এইরূপ ব্রহ্মের মুখে বিস্তৃত আছে। এ সকলই কর্মজ — কায়িক, বাচিক বা মানসিক এই তিন প্রকার কর্ম হইতে সমুদ্ভুত বলিয়া জানিও। এইরূপ জানিলে মুক্তিলাভ করিবে।
শ্রেয়ান্ দ্রব্যময়াদ্ যজ্ঞাজ্জ্ঞানযজ্ঞঃ পরন্তপ।
সর্বং কর্মাখিলং পার্থ জ্ঞানে পরিসমাপ্যতে।।৩৩
অনুবাদ
হে পরন্তপ, দ্রব্যসাধ্য দৈবযজ্ঞাদি হইতে জ্ঞানযজ্ঞ শ্রেষ্ঠ। কেননা ফলসহ সমস্ত কর্ম নিঃশেষে জ্ঞানে পরিসমাপ্ত হয়।
তদ্বিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া।
উপদেক্ষ্যন্তি তে জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিনঃ।।৩৪
অনুবাদ
গুরুচরণে দণ্ডবৎ প্রণামদ্বারা, নানা বিষয় প্রশ্নদ্বারা এবং গুরুসেবা দ্বারা সেই জ্ঞান লাভ কর। জ্ঞানী তত্ত্বদর্শী গুরু তোমাকে সেই জ্ঞান উপদেশ করিবেন।
যজ্জ্ঞাত্বা ন পুনর্মোহমেবং যাস্যসি পাণ্ডব।
যেন ভূতান্যশেষেণ দ্রক্ষ্যস্যাত্মন্যথো ময়ি।।৩৫
অনুবাদ
হে পাণ্ডব, যে জ্ঞানদ্বারা সমস্ত ভূতগ্রাম স্বীয় আত্মাতে এবং অনন্তর আমাতে দেখিতে পাইবে — তাহা জানিলে পুনরায় এইরূপ মোহপ্রাপ্ত হইবে না।
অপি চেদসি পাপেভ্যঃ সর্বেভ্যঃ পাপকৃত্তমঃ।
সর্বং জ্ঞানপ্লবেনৈব বৃজিনং সন্তরিষ্যসি।।৩৬
অনুবাদ
সমুদয় পাপী হইতে অধিক পাপাচারী যদি তুমি হও — তথাপি জ্ঞানরূপ তরণীদ্বারা সমুদয় পাপসমুদ্র উত্তীর্ণ হইতে পারিবে।
যথৈধাংসি সমিদ্ধোহগ্নির্ভস্মসাৎ কুরুতেহর্জুন।
জ্ঞানাগ্নিঃ সর্বকর্মাণি ভস্মসাৎ কুরুতে তথা।।৩৭
অনুবাদ
হে অর্জুন, যেমন প্রজ্বলিত অগ্নি কাষ্ঠরাশিকে ভস্মীভূত করে — তেমন জ্ঞানরূপ অগ্নি কর্মরাশিকে ভস্মসাৎ করে।
ন হি জ্ঞানেন সদৃশং পবিত্রমিহ বিদ্যতে।
তৎ স্বয়ং যোগসংসিদ্ধঃ কালেনাত্মনি বিন্দতি।।৩৮
অনুবাদ
ইহলোকে জ্ঞানের ন্যায় পবিত্র আর কিছু নাই। কর্মযোগে সিদ্ধ পুরুষ সেই জ্ঞান কালসহকারে আপনিই অন্তরে লাভ করেন।
শ্রদ্ধাবান্ লভতে জ্ঞানং তৎপরঃ সংযতেন্দ্রিয়ঃ।
জ্ঞানং লব্ধ্বা পরাং শান্তিমচিরেণাধিগচ্ছতি।।৩৯
অনুবাদ
শ্রদ্ধাবান্, একনিষ্ঠ সাধনতৎপর ও জিতেন্দ্রিয় — তিনিই জ্ঞান লাভ করেন। আত্মজ্ঞান লাভ করিয়া পরম শান্তি লাভ করেন।
অজ্ঞশ্চাশ্রদ্দধানশ্চ সংশয়াত্মা বিনশ্যতি।
নায়ং লোকোহস্তি ন পরো ন সুখং সংশয়াত্মনঃ।।৪০
অনুবাদ
বিনষ্ট হয় শ্রদ্ধাহীন, অজ্ঞ, সংশয়াকুল ব্যক্তি। সংশয়াত্মার ইহলোকও নাই, পরলোকেও সুখ নাই।
যোগসংন্যস্তকর্মাণং জ্ঞানসংচ্ছিন্নসংশয়ম্।
আত্মবন্তং ন কর্মাণি নিবধ্নন্তি ধনঞ্জয়।।৪১
অনুবাদ
নিষ্কাম কর্মযোগের দ্বারা যাঁহার কর্ম ঈশ্বরে সমর্পিত হইয়াছে, আত্মদর্শনরূপ জ্ঞানের দ্বারা যাঁহার সকল সংশয় ছিন্ন হইয়াছে — এইরূপ আত্মজ্ঞানী পুরুষকে কর্মসকল আবদ্ধ করিতে পারে না।
তস্মাদজ্ঞানসম্ভূতং হৃৎস্থং জ্ঞানাসিনাত্মনঃ।
ছিত্ত্বৈনং সংশয়ং যোগমাতিষ্ঠোত্তিষ্ঠ ভারত।।৪২
অনুবাদ
হে ভারত, অজ্ঞানজাত হৃদয়স্থ এই তোমার সংশয়রাশিকে আত্মজ্ঞানরূপ খড়্গদ্বারা ছেদন করিয়া নিষ্কাম কর্মযোগ অবলম্বন কর — উঠ, যুদ্ধ কর।
ইতি জ্ঞানযোগ নামক
চতুর্থ অধ্যায় সমাপ্ত।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতোপনিষৎসু ব্রহ্মবিদ্যায়াং
যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে
জ্ঞানযোগো নাম চতুর্থোহধ্যায়ঃ