📖 প্রতি অধ্যায়ের পাঠফল — ব্রহ্মোবাচ
১
প্রথম অধ্যায় — অর্জুনবিষাদযোগ
পাঠ করিলে নর পূতাত্মা — পবিত্রচিত্ত হইয়া থাকেন।
২
দ্বিতীয় অধ্যায় — সাংখ্যযোগ
বুদ্ধির নির্মলতা লাভ হয়।
৩
তৃতীয় অধ্যায় — কর্মযোগ
সকল পাপের বিনাশ হইয়া থাকে।
৪
চতুর্থ অধ্যায় — জ্ঞানযোগ
ব্রহ্মহত্যার পাপ তৎক্ষণাৎ নষ্ট হইয়া যায়।
৫
পঞ্চম অধ্যায় — সন্ন্যাসযোগ
স্ত্রীবধাদি পাপ এবং চৌর্যকর্মের পাপ হইতে মুক্তি।
৬
ষষ্ঠ অধ্যায় — ধ্যানযোগ
দৌর্ভাগ্যের নাশ হয়।
৭
সপ্তম অধ্যায় — জ্ঞানবিজ্ঞানযোগ
মতি নির্মল হয়।
৮
অষ্টম অধ্যায় — অক্ষরব্রহ্মযোগ
অভক্ষ্য ও অপেয় হইতে জাত পাপের নিষ্কৃতি লাভ হয়।
৯
নবম অধ্যায় — রাজবিদ্যারাজগুহ্যযোগ
পৃথিবীদানের সমান পুণ্য লাভ হয়।
১০
দশম অধ্যায় — বিভূতিযোগ
জ্ঞানলাভ হয় ও সর্বপাপ বিমোচন হয়।
১১
একাদশ অধ্যায় — বিশ্বরূপদর্শনযোগ
পরব্রহ্মজ্ঞান লাভ করিয়া মুক্তি প্রাপ্ত হয়।
১২
দ্বাদশ অধ্যায় — ভক্তিযোগ
বিশুদ্ধ ও ধ্রুব ভগবদ্ভক্তি জন্মলাভ করে।
১৩
ত্রয়োদশ অধ্যায় — ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞবিভাগযোগ
জ্ঞাননেত্র বিকশিত হইয়া পৌরুষ বৃদ্ধি পায়।
১৪
চতুর্দশ অধ্যায় — গুণত্রয়বিভাগযোগ
অশ্বমেধাদি যজ্ঞের সমান পুণ্য লাভ হয়।
১৫
পঞ্চদশ অধ্যায় — পুরুষোত্তমযোগ
নির্মল জ্ঞান আসাদন করিয়া যোগী হওয়া যায়।
১৬
ষোড়শ অধ্যায় — দৈবাসুরসম্পদ্বিভাগযোগ
সংসারবন্ধন হইতে মুক্তিলাভ হয়।
১৭
সপ্তদশ অধ্যায় — শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ
ভক্ত বাজপেয় যজ্ঞের ফল লাভ করেন এবং ভাগবতী প্রীতি লাভ করিয়া মুক্তাবস্থায় বিরাজ করেন।
১৮
অষ্টাদশ অধ্যায় — মোক্ষযোগ
ভক্তিসহকারে পাঠ করিলে ভাগ্যবান নর জ্ঞানাগ্নিতে সকল পাপ দগ্ধ হইয়া জীবন্মুক্ত হন — এতে কোনো সংশয় নাই।
✨ সম্পূর্ণ গীতাপাঠের ফল
ব্রহ্মোবাচ — শ্লোক ১০-১১
সমস্তপঠনাৎ সূত ফলং ন শক্যতে।
ভুক্ত্বাভিলষিতান্ কামান্ ব্রহ্মসাযুজ্যমৃচ্ছতি।।
বিশেষতো ভবেদ্ বৎস প্রত্যেকাধ্যায়পাঠতঃ।
ইহামুত্র পরং সৌখ্যং ভক্তঃ প্রাপ্নোতি নিশ্চিতম্।।
সম্পূর্ণ গীতাপাঠের ফল বর্ণনা করিয়া শেষ করা সম্ভব নয়। অভিলষিত কামনা ভোগ করিয়া ব্রহ্মসাযুজ্য লাভ করা যায়। বিশেষতঃ প্রতিটি অধ্যায় পাঠ করিলে ভক্ত ইহলোক ও পরলোকে পরম সৌখ্য নিশ্চিতরূপে প্রাপ্ত হন।
🌟 গীতার শ্রেষ্ঠত্ব
১
ভারতে সর্ববেদার্থো ভারতার্থশ্চ কৃৎস্নশঃ।
গীতায়ামন্তি তেনেয়ং সর্বশাস্ত্রময়ী গীতা।।
অর্থ
মহাভারতে সকল বেদের অর্থ নিহিত এবং সমগ্র মহাভারতের অর্থ গীতায় নিহিত। সেই জন্য গীতা সর্বশাস্ত্রময়ী।
২
গীতা সুগীতা কর্ত্তব্যা কিমন্যৈঃ শাস্ত্রবিস্তরৈঃ।
যা স্বয়ং পদ্মনাভস্য মুখপদ্মাদ বিনিসৃতা।।
অর্থ
গীতা সুন্দরভাবে গাওয়া কর্তব্য। অন্য শাস্ত্রের বিস্তারে কি প্রয়োজন? যাহা স্বয়ং পদ্মনাভ ভগবানের মুখপদ্ম হইতে বিনির্গত।
🏛️ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বাত্ময়ী মূর্তি
অষ্টাদশ অধ্যায়ই গীতার বাত্ময়ী মূর্তি
২
পদাম্বুজ
অধ্যায় ?
৫
বস্ত্র
৫ অধ্যায়
৫
জ্ঞান
৫ অধ্যায়
১০
ভুজ
১০ অধ্যায়
১
উদর
১ অধ্যায়
= ২+৫+৫+১০+১ = ২৩ + বাকি = ১৮ অধ্যায়
বাত্ময়ী মূর্তি শ্লোক
বস্ত্রাণি পঞ্চ জ্ঞানীহি পঞ্চাধ্যায়া হ্যনুক্রমাৎ।
দশাধ্যায়া ভুজাশ্চৈকমুদরং দ্বে পদাম্বুজে।।
এবমষ্টাদশাধ্যায়ী গীতা বাত্ময়ী মূর্তিরীশ্বরী।
জ্ঞানীহি জ্ঞানমাত্রেণ মহাপাতকনাশিনী।।
পাঁচটি বস্ত্র অধ্যায় ১-৫, পাঁচটি জ্ঞান অধ্যায় ৬-১০, দশটি ভুজ অধ্যায় ১১-১৮ (অতিরিক্ত ২টি পদাম্বুজ ও ১টি উদর সহ)। এইরূপ অষ্টাদশ অধ্যায়বিশিষ্ট গীতা ঈশ্বরের বাত্ময়ী মূর্তি — জ্ঞানমাত্রে মহাপাতকের নাশকারী।
🙏 গীতাপ্রারম্ভ মন্ত্র
১
ওঁ অখণ্ডমণ্ডলাকারং ব্যাপ্তং যেন চরাচরম্।
তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরুবে নমঃ।।
অর্থ
যিনি অখণ্ড ও মণ্ডলাকার — সমগ্র চরাচর যাহাতে ব্যাপ্ত, যিনি সেই পদ দর্শন করাইয়া দেন — সেই শ্রীগুরুকে নমস্কার।
২-৩
নমো ধর্মায় মহতে নমঃ কৃষ্ণায় বেধসে।
ব্রাহ্মণেভ্যো নমস্কৃত্য ধর্মান্ বক্ষ্যে সনাতনম্।।
নারায়ণং নমস্কৃত্য নরঞ্চৈব নরোত্তমম্।
দেবীং সরস্বতীং চৈব ততো জয়মুদীরয়েৎ।।
অর্থ
মহাধর্মকে নমস্কার, কৃষ্ণরূপ বিধাতাকে নমস্কার। ব্রাহ্মণদিগকে নমস্কার করিয়া সনাতন ধর্ম বলিব। নারায়ণ, নর ও দেবী সরস্বতীকে নমস্কার করিয়া 'জয়' উচ্চারণ করিবেন।
৪-৫
ব্যাসং বশিষ্ঠনপ্তারং শক্তেঃ পৌত্রমকল্মষম্।
পরাশরাত্মজং বন্দে শুকতাতং তপোনিধিম্।।
ব্যাসায় বিষ্ণুরূপায় ব্যাসরূপায় বিষ্ণবে।
নমো বৈ ব্রহ্মবিদ্যায়ৈ বশিষ্ঠায় নমো নমঃ।।
অর্থ
বশিষ্ঠের প্রপৌত্র, শক্তির পৌত্র, পরাশরের পুত্র, শুকদেবের পিতা, তপোনিধি ব্যাসদেবকে বন্দনা। বিষ্ণুস্বরূপ ব্যাসকে, ব্যাসরূপ বিষ্ণুকে, ব্রহ্মবিদ্যারূপ বশিষ্ঠকে — পুনঃ পুনঃ নমস্কার।
৬-৭
অচতুর্বদনো ব্রহ্মা দ্বিবাহুরপরো হরিঃ।
অভাললোচনঃ শম্ভুর্ভগবান্ বাদরায়ণিঃ।।
অর্থ
চারমুখহীন ব্রহ্মা, দুইবাহু হরি এবং ললাটলোচনহীন শম্ভুর মতো অতুলনীয় ভগবান বাদরায়ণি (ব্যাসদেব)।
🕉️
গীতা সুগীতা কর্ত্তব্যা
কিমন্যৈঃ শাস্ত্রবিস্তরৈঃ।
হরি ওঁ তৎ সৎ
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা গীতাধ্যায়পাঠফলম্ সমাপ্তম্