🕉️

ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা

পাঠবিধি ও মঙ্গলাচরণ

📿 পাঠারম্ভের প্রস্তুতি
শুদ্ধভাবে পূর্ব বা উত্তরমুখে বসিয়া আচমন, বিষ্ণুস্মরণ, স্বস্তিবাচন, সঙ্কল্প ও আসনাদি শুদ্ধির পর নিম্নোক্ত মন্ত্রপাঠে করন্যাস করিবেন।
🌸 গীতামালামন্ত্র
মূল মন্ত্র

ওঁ অস্য শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা-মালা-মন্ত্রস্য শ্রীভগবান্ বেদব্যাসঃ ঋষিরনুষ্টুপ্ ছন্দঃ শ্রীকৃষ্ণঃ পরমাত্মা দেবতা।

'অশোচ্যানন্বশোচত্ত্বং প্রজ্ঞাবাদাংশ্চ ভাষসে' ইতি বীজম্।

'সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ' ইতি শক্তিঃ।

'অহং ত্বাং সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ' ইতি কীলকম্।

🙏 করন্যাস
উপরের মন্ত্রটি পাঠ করিয়া নিম্নোক্ত ক্রমে করন্যাস করিবেন।
উভয় হস্তের অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা তর্জনী স্পর্শ

'নৈনং ছিন্দন্তি শস্ত্রাণি নৈনং দহতি পাবকঃ'
ইতি অঙ্গুষ্ঠাভ্যাং নমঃ।

পুনরায় অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা তর্জনী স্পর্শ

'ন চৈনং ক্লেদয়ন্ত্যাপো ন শোষয়তি মারুতঃ'
ইতি তর্জনীভ্যাং স্বাহা।

অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা মধ্যমা স্পর্শ

'অচ্ছেদ্যোহয়মদাহ্যোহয়মক্লেদ্যোহশোষ্য এব চ'
ইতি মধ্যমাভ্যাং বষট্।

অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা অনামিকা স্পর্শ

'নিত্যঃ সর্বগতঃ স্থাণুরচলোহয়ং সনাতনঃ'
ইতি অনামিকাভ্যাং হুম্।

অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা কনিষ্ঠা স্পর্শ

'পশ্য মে পার্থ রূপাণি শতশোহথ সহস্রশঃ'
ইতি কনিষ্ঠাভ্যাং বৌষট্।

দক্ষিণ করতল দ্বারা বাম করতল বেষ্টন → হাততালি

'নানাবিধানি দিব্যানি নানাবর্ণাকৃতীনি চ'
ইতি করতলপৃষ্ঠাভ্যাম অস্ত্রায় ফট্।

বাম করতলের উপর দক্ষিণ করতল দ্বারা হাততালি দিবেন। — ইতি করন্যাসঃ।

✋ অঙ্গন্যাস
দক্ষিণ হস্ত দ্বারা হৃদয় স্পর্শ

'নৈনং ছিন্দন্তি শস্ত্রাণি নৈনং দহতি পাবকঃ'
ইতি হৃদয়ায় নমঃ।

মস্তক স্পর্শ

'ন চৈনং ক্লেদয়ন্ত্যাপো ন শোষয়তি মারুতঃ'
ইতি শিরসে স্বাহা।

শিখা স্পর্শ

'অচ্ছেদ্যোহয়মদাহ্যোহয়মক্লেদ্যোহশোষ্য এব চ'
ইতি শিখায়ৈ বষট্।

কবচ স্পর্শ

'নিত্যঃ সর্বগতঃ স্থাণুরচলোহয়ং সনাতনঃ'
ইতি কবচায় হুম্।

নেত্রদ্বয় ও ভ্রমধ্য স্পর্শ

'পশ্য মে পার্থ রূপাণি শতশোহথ সহস্রশঃ'
ইতি নেত্রত্রয়ায় বৌষট্।

হাততালি

'নানাবিধানি দিব্যানি নানাবর্ণাকৃতীনি চ'
ইতি অস্ত্রায় ফট্।

হাততালি দিবেন। — ইহার নাম অঙ্গন্যাস।

তারপর গণেশাদি পঞ্চদেবতা এবং শ্রীকৃষ্ণের পূজা করিয়া মঙ্গলাচরণের শ্লোকগুলি পাঠ করতঃ গীতাপাঠ আরম্ভ করিবেন।
🌺 মঙ্গলাচরণম্

ওঁ পার্থায় প্রতিবোধিতাং ভগবতা নারায়ণেন স্বয়ম্।
ব্যাসেন গ্রথিতাং পুরাণমুনিনা মধ্যে মহাভারতম্।।
অদ্বৈতামৃতবর্ষিণীং ভগবতীমষ্টাদশাধ্যায়িনীম্।
অম্ব! ত্বামনুসন্দধামি ভগবদ্গীতে ভবদ্বেষিণীম্।।

অর্থ ভগবান নারায়ণ স্বয়ং পার্থকে যাহার জ্ঞান দিয়াছেন, পুরাণমুনি ব্যাসদেব মহাভারতের মধ্যে যাহা গ্রথিত করিয়াছেন, অদ্বৈতামৃতবর্ষিণী, অষ্টাদশাধ্যায়বিশিষ্টা, সংসারের বিনাশকারিণী হে ভগবদ্গীতে মাতঃ — তোমাকে আমি ধ্যান করি।

নমোহস্তু তে ব্যাস বিশালবুদ্ধে ফুল্লারবিন্দায়তপত্রনেত্র।
যেন ত্বয়া ভারততৈলপূর্ণঃ প্রজ্বালিতো জ্ঞানময়ঃ প্রদীপঃ।।

অর্থ হে বিশাল বুদ্ধিসম্পন্ন, প্রফুল্ল পদ্মের মতো বিশাল নেত্রবিশিষ্ট ব্যাসদেব, তোমাকে নমস্কার। তুমি মহাভারতরূপ তৈলপূর্ণ জ্ঞানময় প্রদীপ প্রজ্বালিত করিয়াছ।

প্রপন্নপারিজাতায় তোত্রবেত্রৈকপাণয়ে।
জ্ঞানমুদ্রায় কৃষ্ণায় গীতামৃতদুহে নমঃ।।

অর্থ শরণাগতের পারিজাততুল্য, একহাতে বেত্রধারণকারী, জ্ঞানমুদ্রাযুক্ত, গীতামৃত দোহনকারী শ্রীকৃষ্ণকে নমস্কার।

সর্বোপনিষদো গাবো দোগ্ধা গোপালনন্দনঃ।
পার্থো বৎসঃ সুধীর্ভোক্তা দুগ্ধং গীতামৃতং মহৎ।।

অর্থ সকল উপনিষদ গো-স্বরূপ, গোপালনন্দন শ্রীকৃষ্ণ দোগ্ধা, পার্থ বৎসস্বরূপ, সুধীব্যক্তি ভোক্তা — আর সেই মহৎ গীতামৃতই দুগ্ধস্বরূপ।

বসুদেবসুতং দেবং কংসচাণুরমর্দ্দনম্।
দেবকীপরমানন্দং কৃষ্ণং বন্দে জগদ্গুরুম্।।

অর্থ বসুদেবের পুত্র, কংস ও চাণুরের মর্দনকারী, দেবকীর পরমানন্দ, জগৎগুরু শ্রীকৃষ্ণকে বন্দনা করি।

ভীষ্মদ্রোণতটা জয়দ্রথজলা গান্ধারনীলোপলা
শল্যগ্রাহবতী কৃপেণ বহনী কর্ণেন বেলাকুলা।
অশ্বত্থামবিকর্ণঘোরমকরা দুর্য্যোধনাবর্তিনী
সোত্তীর্ণা খলু পাণ্ডবৈ রণনদী কৈবর্তকেঃ কেশবে।।

অর্থ ভীষ্ম-দ্রোণরূপ তট, জয়দ্রথরূপ জল, গান্ধাররাজরূপ নীলপাষাণ, শল্যরূপ কুমির, কৃপরূপ প্রবাহ, কর্ণরূপ তরঙ্গ, অশ্বত্থামা-বিকর্ণরূপ ঘোর মগর, দুর্যোধনরূপ আবর্তবিশিষ্ট এই রণনদী পাণ্ডবগণ কৃষ্ণরূপ কর্ণধারকে লইয়া পার হইয়াছেন।

পারাশর্যবচঃসরোজমমলং গীতার্থগন্ধোৎকটং
নানাখ্যানককেশরং হরিকথাসম্বোধনাবোধিতম্।
লোকে সজ্জনষট্পদৈরহরহঃ পেপীয়মানং মুদা
ভূয়াদ্ভারতপঙ্কজং কলিমলপ্রধ্বংসি নঃ শ্রেয়সে।।

অর্থ পরাশরপুত্র ব্যাসের বাক্যরূপ, গীতার্থগন্ধে সুবাসিত, নানা আখ্যানরূপ কেশরযুক্ত, হরিকথায় প্রবুদ্ধ, সজ্জনরূপ ভ্রমরগণ কর্তৃক সর্বদা পীয়মান এই মহাভারতরূপ পদ্ম কলিমলনাশক হইয়া আমাদের কল্যাণ করুক।

মুকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে পরমানন্দমাধবম্।।

অর্থ যাঁহার কৃপায় মূক বাচাল হয়, পঙ্গু পর্বত লঙ্ঘন করে — সেই পরমানন্দ মাধবকে আমি বন্দনা করি।

যং ব্রহ্মাবরুণেন্দ্ররুদ্রমরুতঃ স্তন্বন্তি দিব্যৈঃ স্তবৈ-
র্বেদৈঃ সাঙ্গপদক্রমোপনিষদৈর্গায়ন্তি যং সামগাঃ।
ধ্যানাবস্থিত-তদ্গতেন মনসা পশ্যন্তি যং যোগিনো
যস্যান্তং ন বিদুঃ সুরাসুরগণা দেবায় তস্মৈ নমঃ।।

অর্থ ব্রহ্মা, বরুণ, ইন্দ্র, রুদ্র ও মরুৎগণ যাঁহাকে দিব্য স্তবে স্তুতি করেন, সামগায়করা বেদ-উপনিষদ দ্বারা গান করেন, যোগিগণ ধ্যানে যাঁহাকে দর্শন করেন, দেবতা ও অসুরগণও যাঁহার অন্ত জানেন না — সেই দেবতাকে নমস্কার।
🕉️

মঙ্গলাচরণ সমাপ্তের পর
শ্রীভগবদ্গীতাপাঠ আরম্ভ করিবেন।

হরি ওঁ তৎ সৎ

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠবিধি ও মঙ্গলাচরণ সমাপ্তম্